তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের দাবিতে ২০ কিমি মানব প্রাচীর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-০৬-২০২৬ ০৪:৪৯:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৬-২০২৬ ০৪:৪৯:২৩ অপরাহ্ন
তিস্তা মহাপরিকল্পনা
মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি) :
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা ব্যারাজ থেকে জলঢাকা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে মানব প্রাচীর গড়ে তুলেছেন স্থানীয় জনগণ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (২০ জুন) বেলা ১২টায় এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক ছাদের হোসেনের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, “মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা গতকাল তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিস্তা আবারও তার ভয়াবহ রূপ দেখিয়েছে।”
তিনি জানান, শনিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল ৫২ দশমিক ১০ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপদসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে। উজান থেকে আকস্মিক পানি ছাড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, প্রতি বছর তিস্তা অববাহিকার মানুষ খরা ও বন্যার দুর্ভোগে পড়েন। চরাঞ্চলের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সামান্য পানি বৃদ্ধিতেই পলি জমা আবাদি জমির বাদাম, ভুট্টা, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যায়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীশাসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “উত্তরাঞ্চলের মানুষ আর নতুন আশ্বাস শুনতে চায় না, তারা দৃশ্যমান উদ্যোগ এবং বাস্তবায়ন দেখতে চায়।”
নীলফামারী-২ (নীলফামারী সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ নদী ভারত থেকে প্রবাহিত। বর্ষায় পানি ছেড়ে দিয়ে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রেখে ভারত বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিস্তার তীরবর্তী অঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সবুজ শ্যামল অঞ্চল রক্ষায় সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি বলেন, তিস্তার দুই ধারের জমি থেকে যে ট্যাক্স আসে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগালে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব। উত্তরবঙ্গকে দেশের খাদ্যশস্যের ভান্ডার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকরা সঠিক মূল্য ও পরিবহন সুবিধার অভাবে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুত্তাকিম বলেন, উত্তরবঙ্গের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা তিস্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করলে এ অঞ্চলের মানুষ আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আগামী সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বাজেট প্রস্তাব রাখার দাবি জানান তিনি।
এ সময় বক্তব্য রাখেন নীলফামারী বারের অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ পাটোয়ারী, সিনিয়র আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান আযাদ, সিনিয়র সাংবাদিক কামারুজ্জামান, অধ্যাপক হাবিবুর রহমানসহ অনেকে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক আন্তাজুল ইসলাম, ড. খাইরুল আলম, মনিরুজ্জামান জুয়েলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনের সঙ্গে তিস্তা নদীর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। দীর্ঘদিন ধরে নদীশাসন ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ বারবার দুর্ভোগে পড়ছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স